Thursday, 16 August 2018


চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৪৪০০ কোটি ডলার নির্ধারণ

ঢাকা,৮আগস্ট,ফোকাস বাংলা নিউজ:চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩৯ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি।এবার দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।তিনি বলেন, আমরা আশা করি তৈরি পোশাকে এবার আরও ভালো করতে পারব। আশা করছি রপ্তানি আরও বাড়বে।গত অর্থবছরে রপ্তানি পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। একমাত্র চামড়া খাত ছাড়া সব খাতে রপ্তানি ভালো হয়েছে।২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭৫০ কোটি (৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার। সেই হিসেবে এবার এই লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে দেড় বিলিয়ন ডলার। সেবাখাতের ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার নিয়ে চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তোফায়েল আহমেদ।তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উভেন পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।আর চলতি অর্থবছরে নিট পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১৫০ কোটি ডলার; এতে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তোফায়েল জানান, গত অর্থবছর তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ হাজার ৬১৪ কোটি ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮৮ দশমকি ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ৪২৬ কোটি ডলার। আর উভেন পণ্যে রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৫ হাজার ১৮৮ কোটি ডলার।এবার ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৫ কোটি ডলার।চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক হাজার ১২৪ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১১ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।অন্যদিকে ৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ওষুধে ১১২ কোটি ডলার এবং ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে হোম টেক্সটাইলে ৯৪০ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫২ কোটি ডলার; যা গতবারের চেয়ে ১ দশমিক ১১ শতাংশ কম।সরকার বর্তমানে ২৭টি পণ্য রফতানি খাতে বিভিন্ন হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, এবার আরও ৯টি পণ্য রফতানিতে ১০ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্যগুলো হলো হিমায়িত সফটসেল কাঁকড়া, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য ও ওষুধের কাঁচামাল, সিরামিক দ্রব্য, গালভানাইজড সিট বা কয়েলস, ফটোভলটাইক মডুল, রেজার ও রেজার ব্রেডস, ক্লোরিন, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, কস্টিক সোডা ও হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড।’ বুধবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০১৮-২০১৯ অর্থরছরের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ সংক্রান্ত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীতে দেশের রফতানিকারকরা পণ্য রফতানিতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন। রফতানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালে দেশের মোট রফতানি ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তিনি বলেন, দেশের রফতানির সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, রফতানি হয়েছে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবছর তৈরি পোশাক রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে এর পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রফতানিতে আগে ৩ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতো। এখন আরও একভাগ বাড়িয়ে ৪ শতাংশ হারে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামীতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীষ বসু, এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।
প্রতিবেদক/জিএম/ফোকাস বাংলা/১৫২১ ঘ.

ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নিচ্ছে সরকার
তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই কয়লা কেলেঙ্কারির হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা