Thursday, 16 August 2018


হাসপাতাল থেকে ফের ডিবি’র হেফাজতে শহিদুল

ঢাকা,৮আগস্ট,ফোকাস বাংলা নিউজ:তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে হাইকোর্টের নির্দেশে হাসপাতালে নেওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ফের গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।শহিদুল আলম হাসপাতালে ভর্তি করার মতো অসুস্থ নন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ-আল-হারুন।তিনি বলেন, আমাদের মেডিকেল বোর্ড তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে। হাসপাতালে ভর্তি করার মতো অবস্থা দেখিনি। শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে বলেও জানান বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক। শহিদুল আলমের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বিএসএমএমইউ মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, শহিদুল সাহেবের শারীরিক তেমন বড় কোনো সমস্যা নেই। তাকে ভর্তি করা হচ্ছে না। আমরা তাকে খুব ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি। কোনো সমস্যা নেই, তাকে অনেকবার জিজ্ঞাসাও করেছি। তিনি নিজেও কোনো সমস্যার কথা বলেননি।তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে হাইকোর্টের নির্দেশে বুধবার (০৮ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) একটি রিটের শুনানি শেষে রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে পাঠাতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের করা আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় করা একটি মামলায় গত ৬ আগস্ট থেকে রিমান্ডে রয়েছেন শহিদুল। আটকের পর তাকে নির্যাতন ও রিমান্ডে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা চেয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ।এতে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিআইজি (ডিবি) ও রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিবাদী করা হয়।নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফেসবুক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত সৃস্টির অভিযোগ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুাহ-আল-হারুন বলেন, আমাদের মেডিকেল বোর্ড তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছে। তাকে ভর্তি করার মত অবস্থা দেখিনি।স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বুধবার বেলা ২টার পর শহিদুল আলমকে আবার গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে গেছে জানিয়ে পরিচালক বলেন, উনার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল আমরা আগামীকাল পাব। দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করার পর সোমবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ।কিন্তু শহিদুলকে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করার অভিযোগ এনে রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার হাই কোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। ওই আবেদন শুনে আদালত দ্রুত শহিদুলকে ডিবি হেফাজত থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে শহিদুলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সে অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টার দিকে শহিদুল আলমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন জানান।বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড কেবিন ব্লকের পাঁচ তলার একটি কক্ষে শহিদুল আলমকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে।শহিদুলের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ ও কয়েকজন আইনজীবীকে সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের নিচে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। তবে তারা শহিদুলের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি বলে জানান দৃক গ্যালারির মহাব্যবস্থাপক এ এস এম রেজাউর রহমান। বেলা সোয়া ২টার দিকে শহিদুল হাসপাতালের থেকে বেরিয়ে আসার সময় রেহনুমা এবং দৃকের কয়েকজন সহকর্মীকে তার পাশে দেখা যায়। রেজাউর রহমান পরে বলেন, উনি (শহিদুল) গাড়িতে ওঠার সময়ও বলেছেন, উনার হাতে পায়ে ব্যথা। উনার স্ত্রী আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন অধিকারকর্মী আলোকচিত্রী শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।এরপর রোববার রাতে শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে পুলিশ।ওই মামলায় কল্পনাপ্রসূত তথ্যের মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয় আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে। সোমবার আদালতে তোলার আগে গাড়ি থেকে নামার সময় শহিদুল সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে আঘাত করা হয়েছে। আমার রক্ত মাখা পাঞ্জাবি ধুয়ে আবার পরানো হয়েছে।আর হাকিম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শহিদুল বলেন, গ্রেপ্তারের সময় তার চোখ-মুখ বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়েছিল।তারা আমাকে মোসাদ, আইএসআইর এজেন্ট বলে গালি দেয়, দেশদ্রোহীও বলে তারা। তারা আমাকে মারধরও করে।৬৩ বছর বয়সী শহিদুলকে হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার হাই কোর্টে তার স্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রেহনুমার করা আবেদনে বলা হয়, পুলিশ হেফাজতে শহিদুলকে নির্যাতন এবং চিকিৎসা না দিয়ে তাকে রিমান্ডে পাঠানোর মাধ্যমে সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩ এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করা হয়েছে।
প্রতিবেদক/জিএম/ফোকাস বাংলা/১৪২০ ঘ.

ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নিচ্ছে সরকার
তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই কয়লা কেলেঙ্কারির হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা